Wednesday, October 4, 2023

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি সন্দেহজনক

হঠাৎ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে মাতামাতিকে সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আসল কথা নির্বাচন বানচাল করা। একটা দেশ এত দ্রুত উন্নতি করেছে, সেটাই তাদের মাথাব্যথা। না হলে সুষ্ঠু ভোট, সুষ্ঠু ভোট বলে এত মাতামাতি কেন? তারা ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েই যাচ্ছে। তাহলে এটাই বলতে হয়, সন্দেহ হয় রে! মানুষ যদি সেটা বোঝে। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট আমাকে শেখাতে হবে না। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া সবাই ভোটচোর। এ দেশের মানুষ জানে নৌকায় ভোট দিয়েই তারা স্বাধীনতা পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সফর বিষয়ে জানাতে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা জানে নির্বাচন করে জনগণের ভোট পাবে না, তারা সব জায়গায় গিয়ে ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ তাদের তো কোটি কোটি টাকা। ক্ষমতায় থেকে এত বেশি টাকা মানি লন্ডারিং এবং এত বেশি টাকার মালিক হয়ে গেছে, অবাধে সে টাকা খরচ করে যাচ্ছে তারা। শেখ হাসিনা বলেন, আমি স্পষ্ট বলে এসেছি। কেন? ভোটের জন্য তো আমরা সংগ্রাম করলাম। রক্ত দিয়ে, আমার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার অর্জন করে দিয়েছি। আজকে আমাকে ভোটের অধিকার শেখাতে হবে না। তিনি বলেন, আমরা তো সেই আইয়ুব খানের আমল থেকে আন্দোলন করি, রাস্তায় থাকি। এমন নয় যে, নতুন এসেছি। স্কুলজীবন থেকেই রাস্তায় আন্দোলন সংগ্রাম করছি। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে করেছি, ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে করেছি। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া সবাই তো ভোটচোর। আওয়ামী লীগ আসার পর আওয়ামী লীগের তো ভোট চুরি করা লাগে না। আওয়ামী লীগকে তো জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়। কাজের মধ্য দিয়ে আস্থা অর্জন করি আমরা। বিএনপির জন্মই অবৈধ, এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের শিকড় নেই। এ দলের নেতারা যা বলে, তার সবই মিথ্যা। তাদের মিথ্যা কথায় কেউ কান দেবেন না।

মিডিয়া মালিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনাদের সার্ভিস দেয়, তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও তো দেখতে হবে। আমরা তো ওয়েজবোর্ড দিয়েছি। বেসরকারি টেলিভিশনের মালিকদের দায়িত্ব ওয়েজবোর্ড কার্যকর করা। বেসরকারি টেলিভিশনের মালিকদের বলব, খালি টাকা কামালে হবে না, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনাদের সার্ভিস দেয়, তাদের সুযোগ সুবিধার বিষয়টিও দেখতে হবে।

আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীদের কোন যোগ্যতা দেখা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। মানুষের সঙ্গে কারা কাজ করেছে। কারা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, মনোনয়নে আমরা সে বিষয়টি মাথায় রাখি। আগামী নির্বাচনেও সেটি দেখা হবে। আমি ৬ মাস পরপর জরিপ করি। যাদের অবস্থা খারাপ তাদের ডেকে সতর্ক করে দিই। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারির ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Leave Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *